1. admin@dainikcoxsbazardiganto.com : Cox Bazar Dainik :
  2. newsiqbalcox@gmail.com : Md Iqbal : Md Iqbal
November 30, 2020, 2:53 pm
শিরোনাম :
উন্নত রাষ্ট্র গঠনে পরিবেশ রক্ষার বিকল্প নেই-জেলা প্রশাসক যাত্রীবেশে উঠে চকরিয়ায় মহাসড়কে বাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতি টেকনাফে ডিএনসির অভিযানে সাড়ে ৫৭ হাজার ইয়াবাসহ আটক-২ স্বপ্নবুনন’র “পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচী ২০২০ মহেশখালীতে আফরোজা হত্যাকারী বাপ্পীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি সহোদর এহসানের ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস কুতুবদিয়ায় কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকা রেবেকার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ শাপলাপুর কৃষকলীগের নব কমিটি ঘোষণা বাহাদুর হক সাহেব এর সাথে ইসলামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সৌজন্য সাক্ষাৎ কক্সবাজার নাজিরারটেক শ্রমজীবি কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির নার্বাচন সম্পন্ন,

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস

সর্বমোট

আক্রান্ত
৪৬৪,৯৩২
সুস্থ
৩৮০,৭১১
মৃত্যু
৬,৬৪৪

সর্বশেষ

আক্রান্ত
২,৫২৫
সুস্থ
২,৫৩৯
মৃত্যু
৩৫
সূত্র: আইইডিসিআর

মৃত্যু- একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

  • Update Time : Saturday, August 22, 2020
  • 158 Time View

 

 ঃ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন ঃ

যদি আমার মৃত্যুই না হবে,তবে জীবনের স্বাদ কোথায়?মৃত্যু পরম আরাধ্য, জীবনের শ্রেষ্ঠ পাওয়া। জীবন প্রবাহের কোন না কোন সময় এটি কামনা করেনা,এরকম কাউকে খোঁজে পাওয়া যাবে কি?পাওয়া যাবে না। আপনি যদি যুক্তি দেন,অনেকেই আছেন মৃত্যু বিশ্বাস করেন না,বিশ্বাস করেন না মৃত্যুর পরের জীবন।

আমি প্রশ্ন করতে চাই,কেন তারা বিশ্বাস করেন না?
মৃত্যু বা মৃত্যু পরবর্তী জীবন যদি না ই থাকে, তো বিশ্বাস-অবিশ্বাসের কথা আসল কেনো? নাই তো নাই।যেটা নাই সেটা নিয়ে তো কথা বলার প্রয়োজন হয় না। অথচ তা আছে। তাই তারা যুক্তিহীন খোঁড়া কথা প্রচার করে। জন্মের ক্ষণ থেকেই মৃত্যুর ক্ষণ শুরু।জগতে সব প্রাণীই একটি কথাই গর্ব করে নিশ্চিত দিয়ে বলতে পারে,আমি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করব। আর কোনটার নিশ্চয়তা দিতে পারবেন? পারবেন না। সম্ভবত এটি সৃষ্টিকর্তার সব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিও। এখানে আছে,অনন্ত জীবন লাভের উল্লাস,আছে মনোজগতের শ্রেষ্টত্ব পাওয়ার উন্মুক্ত দ্বার,আছে সৃষ্টি সুখের উল্লাস।

হিংসা,বিদ্বেষহীন পরম সুখময় এক অনুভূতির নামই মৃত্যু।কেউ পাশে থাকে,কেউ থাকে না।বড়ই অদ্ভুতুড়ে এ প্রত্যয়টি।যারা পাশে থাকে না,তারাও মরে।তাদের মৃত্যুতে অন্যরা পাশে থাকে। মৃত্যুকে অস্বীকারকারী দলের লোকজনের সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো,তারা যখন বুঝতে পারে মৃত্যু তার খুব কাছে, তখন তারা তাদের বিশ্বাসের বিপরীত কাজেই মনোযোগ দিতে প্রতিযোগিতা করে। মুখে স্বীকার করতে তাদের ব্যক্তিত্বে লাগে। মনে মনে জপ করে।এটিই পরাক্রমশালী মৃত্যু। অটোম্যান সাম্রাজ্যের অন্যতম বীর সেনাপতি মুরাদ পাশা যুদ্ধ জয় করতে করতে একসময় অপরাজেয় খ্যাতি পেলে তাঁর অধীনস্থ সিপাহীরা বলতে শুরু করলেন,মুরাদ পাশার মৃত্যু হবে না। মুরাদ পাশা এ কথা শুনার পর বলেছিলেন,’আমি যদি মৃত্যুকে আলিঙ্গনই করতে না পারি,তো অামি অপরাজেয় হলাম কি করে? যেদিন আমার মৃত্যু হবে সেদিনই আমি জীবনের পূর্ণ স্বাদ পাব।’

মৃত্যু হিসাব নিকাশহীন এক যাত্রা, যার কোন শুরু নাই, শেষও নাই। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ, বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য এবং দার্শনিক ও বিজ্ঞানীগণ বিভিন্নভাবে মৃত্যু নামক অমুখ সত্যকে বিভিন্নভাবে চিত্রায়িত করেছেন। শুরু যেভাবে হোক না কেন শেষটা সবাই এক বিন্দুতে টেনে এনেছেন। পবিত্র কোরআনে অমীয়বানী, প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে। রাজা ১৪’শ লুই মৃত্যুর আগে উপস্থিত শুভাকাঙ্খীদের বলেন “তোমরা কাঁদছো কেন ? তোমরা কি আমাকে অমর ভেবেছিলে? যদি তাই হয় তোমরা আমাকে ভালোবাস না। এ স্বাদ আমাকে নিতে দাও,গ্রহণ করতে দাও জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি”।

সেই হাজার বছর আগে থেকে মৃত্যুকে আমরা সংজ্ঞায়িত করে আসছি। শরীর ও আত্মার বিচ্ছেদই মরণ। অতি প্রচলিত এ ধারনা আধুনিক যুগে প্রায় বিকল হয়ে আসছে। বর্তমানে সিপিআর (কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন) এবং ডিফাইব্রিলেশন প্রক্রিয়া আবিস্কারের ফলে কখনো কখনো হৃদস্পন্দন পুনরায় চালু করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই আকস্মিক মৃত্যুকেও সাময়িকভাবে সচল করে দিচ্ছে। আবার কার্যকরী ফুসফুস ছাড়াও লাইফ সাপোর্ট ডিভাইস, অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট এবং কৃত্রিম পেসমেকারের সাহায্যে জীবনের গতি স্থির অথবা গতিময় করা যাচ্ছে। এমতাবস্থায়, চিকিৎসা বিজ্ঞানীগণ ব্যক্তির মৃত্যুকে ‘ব্রেইন ডেথ’ বা ‘বায়োলোজিক্যাল ডেথ’ শব্দমালা দ্বারা চিহ্নিত করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেছেন। ‘বায়োলজিক্যাল ডেথ’কে মস্তিষ্কের কার্যাবলীর সম্পূর্ণ সমাপ্তি এবং অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

স্নায়ু বিজ্ঞানমতে, ‘ব্রেইন ডেথ’ এর পর সকল প্রকার মানসিক প্রক্রিয়ার সাথে চেতনাও হারিয়ে যায়। চেতনা একটি বিশ্লেষণযোগ্য টার্ম এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিষয়টি আলোচনা যোগ্য,এটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে প্রচুর।চেতনাই হলো বায়োলজিক্যাল ডেথ’র সর্বশেষ ধাপ।এটি নিস্তেজ হয়ে গেলে জীবনের মূল্য অর্থহীন হয়ে পড়ে।

জীব বিজ্ঞানের পরিভাষায় অনেকে দাবী করেন আমাদের শরীরে প্রতিবার DNA (ডি-অক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) প্রতিরূপ সৃষ্টি হবার সময় টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ ক্রমশ কমতে থাকে। ফলে অপত্য DNA আর মাতৃ DNA এর মাঝে কিছুটা পার্থক্য থেকে যায়। এই অপত্য DNA কে ত্রুটিপূর্ণ DNA বলা হয়। ত্রুটিপূর্ণ DNA এর কার্যকারিতা স্বাভাবিক কারণেই মাতৃ DNA এর চেয়ে কম। এভাবে প্রতিবার প্রতিরূপ সৃষ্টি হওয়ার সময় করে DNA ‘র কর্মক্ষমতা একটু একটু কমতে থাকে। একই সাথে দূর্বল হয়ে যেতে থাকে কোষ সমুহ। ফলশ্রুতিতে এক পর্যায়ে মৃত্যু ঘটে কোষের,সেই সাথে প্রাণীর। এটি জীব বিজ্ঞানের একটি তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা।মানুষের মৃত্যুর সাথে এর সম্পর্ক প্রমাণ করতে জীব বিজ্ঞানীরা এখনো সফল হতে পারেননি।

দর্শণ শাস্ত্রে এটারনাল অবিলিভিয়ান হল (অনস্তিত্ব বা নাথিংনেস) স্থায়ীভাবে ব্যক্তির চেতনা বন্ধ হয়ে যাওয়া। এটি মৃত্যুর পর ঘটে। ধর্মীয় সংশয়বাদ ও নাস্তিক্যবাদের সাথে এ মতবাদের সম্পর্ক আছে দাবী করেন অনেক দার্শনিক। তবে এ ধারণার ভিত্তি হল পরকালের সাক্ষ্য প্রমাণ অথবা অ-প্রমাণ। এটারনাল অবিলিভিয়ন এ মৃত্যুকে “অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়া” হিসেবে চিহ্নিত করেন। সেন্টার ফর নেচারিলিজম এর প্রতিষ্ঠাতা থমাস ডব্লিউ ক্লার্ক তার একটি গবেষণাপত্রে “অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়া” তত্ত্বের তীব্র সমালোচনা করেন। তার মতে যখন কেউ নিজেকে তার ভবিষ্যত আত্মায় বা সেলফে নিয়ে যান, যা একটি চিরস্থায়ী নীরব অন্ধকারের অভিজ্ঞতা, তা ভুল। কারণ, চেতনা ছাড়া কোন সচেতনতা এবং সময়ের কোন ভিত্তি থাকতে পারেনা। ক্লার্ক এর মতে, অলিভিয়নে অজ্ঞিতার অনুপস্থিত থাকতে পারে। কারণ, অজ্ঞিতার কথা তখন বলা যায়, যখন কোন ব্যক্তিবাচক বিষয়ের অস্থিত্ব থাকে। এটি মৃত্যু নিয়ে একটি তাত্ত্বিক গবেষণার ফল মাত্র। বাস্তবতার সাথে প্রমাণ করতে না পারলেও এটি মিল পাওয়া যায় প্রাকৃতিকভাবেই। কেন এমন হয় তার ব্যাখ্যা অঅনুপস্থিত।

মৃত্যু গবেষণায় “নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স” একটি বিশাল স্থান দখল করে আছে। অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও সূক্ষ্ম এ বিষয়টি নিয়ে সেই আদিযুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। প্রায় সময় মানুষ তার মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যাওয়ার বিষয়টি আঁচ করতে পারে,নিশ্চিত করতে পারেনা। মৃত্যু শয্যাশায়ী ব্যক্তি যখনই আবার ফিরে আসে তার সে অভিজ্ঞতা সবচেয়ে ব্যতিক্রমি এবং চমকপ্রদ। খেয়াল করলে দেখবেন,প্রায় সময় একেবারে শেষ সময়ে আশপাশে উপস্থিত লোকজন মৃত্যুপথযাত্রীর কানে ধর্মীয় বাণী শুনাতে ব্যস্ত থাকেন। তারা যা বুঝার বুঝেই এটি করেন। ‘আকষ্মিক’ মৃত্যুর ক্ষেত্রে এটি সম্ভব না।আকষ্মিক মৃত্যু একটি বিতর্কিত টার্ম। প্রায় গবেষণা আকষ্মিক মৃত্যু মানতে নারাজ। এটি নাকি দীর্ঘ পরিকল্পনার ফল। এ মতবাদের সাথে একমত হওয়া খুব সহজ,এটি অধিকতর যৌক্তিক।

পরবর্তী আলোচনার আগে “নিয়ার ডেথ এক্সপেরিয়েন্স” বা মৃত্যু পূর্ব/নিকটবর্তী অভিজ্ঞতা নিয়ে একটু জেনে নেয়া যাক। এটি একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা, যা আসন্ন মৃত্যু এবং অনেক গুলো সম্ভাব্য অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত। নিউরোলোজির বিভিন্ন গবেষনায় এই অভিজ্ঞতাকে একটি বিভ্রম অবস্থা বলে মনে করে। যা বিভিন্ন ধরনের নিউরোলোজিকা ফ্যাক্ট, যেমন: হাইপারকারবিয়া, মস্তিষ্কে অস্থায়ী লোবের অস্বাভাবিক আচরণ, সেরেব্রাল এনক্সিয়া এবং ব্রেইন ডেমেজের কারনে ঘটে। কারণ যাই হোক না কেন,ফলাফল একই। এ সময়ের অভিজ্ঞতা একেবারেই বিরল,ব্যতিক্রম,স্পর্শকাতর এবং কোন প্রকার ভিত্তি ছাড়া কেবল বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। কেবল বিশ্বাসের উপর এটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করতে চান না প্রায় সকল গবেষকই। বিশ্বাস করা হয়,একজন মৃত্যুপথযাত্রী মিথ্যা কথা বলেন না। প্রশ্ন করা যায়,তিনি যে মৃত্যুপথযাত্রী এ কথার ভিত্তি কী?এ প্রশ্নের আগের প্রশ্ন হলো,এ গবেষণার অন্য ভিত্তি কী? অনেকে এর পরেও অনেক প্রশ্ন করেন। এটি ছাড়া এ গবেষণায় এখন পর্যন্ত অন্য কোন রেখা বা রেখাংশ নাই।

এবার উপরে বর্নিত চেতনা সম্পর্কে আলোচনা করা যাক। চেতনা নিয়ে আলোচনা বর্তমান গবেষণায় যুগান্তকারী সূচনা করেছে। চেতনার সাথে মৃত্যুর একটি প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে বলে আজ বিজ্ঞান দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। চেতনা হল আশপাশের পরিবেশের কার্যক্ষমতা, ব্যক্তিবাচক অভিজ্ঞতা এবং আত্ম অবগতির ও সচেতনতার ভিত্তি। স্নায়ু বিজ্ঞানী গিউলিউ তুননির মতে, চেতনা হল আমরা যা অনুভব করি তার সব এবং আমাদের যা আছে তার সব। চেতনা হারালে সমগ্র জগৎ অনস্থিত্বে বিলীন হয়ে যাবে। চেতনাই জীবনের শেষ চিহ্ন। চেতনাকে অনেক স্নায়ু বিজ্ঞানী বায়বীয় বলার চেষ্টা করেছেন। বায়বীয় হোক বা দৃশ্যমান হোক চেতনা অনুভূতিতে প্রভাববিস্তারকারী সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। মূলত চেতনাই আমাদের পরিচালিত করে। চেতনা নিউরনে যে সংকেত পাঠায় তাই আমরা মেনে নিতে বাধ্য হই। এটি অতিপ্রাকৃতিক বিষয় বলেও অনেকে দাবি করেন।

ব্রেইন ডেথ এর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের সকল রকমের কার্যকলাপ স্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। যারা মৃত্যু হলে চেতনা স্থায়ীভাবে বন্ধ বিশ্বাস করেন, তারা চেতনা মস্তিষ্কের কার্যকলাপের উপর নির্ভর করে এটিও বিশ্বাস করেন। বৈজ্ঞানিক গবেষনায় দাবী করা হয়, মস্তিষ্কের রেগুলার একটি ভেটিং সিষ্টেম বা থ্যালামাস চেতনার জন্য প্রয়োজনীয়। এসব অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হলে চেতনার অভাব দেখা যায়। অপরদিকে সচেতন মন মস্তিষ্কের উপর নির্ভরশীল। দার্শনিক পল এডওয়ার্ড এর ভাষায়, মস্তিষ্কের ক্ষতির সাথে মনের ক্ষতি সমানুপাতিক। এ থেকে পরিস্কার যে, মস্তিষ্কের সমগ্র ক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হলে মনের ক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে তখন প্রাণীর মৃত্যু ঘটে।

মৃত্যু সম্পর্কে ধ্রুপদি পদার্থ বিজ্ঞানের আলোচনা আরো চমকপ্রদ। পদার্থ বিজ্ঞানী শন “দ্যা বিগ পিকচার” বইয়ে বলেন, মৃত্যু এটারনাল অবলিভিয়নের সমতুল্য। তিনি দাবী করেন, আমাদের প্রতিদিনকার অভিজ্ঞতা জগতের মাঝে থাকা কোর থিওরি মেনে নেয়ার নিহিতার্থ অনেক বেশী। এই কোর থিওরি হলো, মৃত্যুর পর প্রত্যেক জীবনের জীবিত প্রাণী হিসেবে প্রত্যেকের একটি সীমাবদ্ধ সময় আছে। যার এই সীমাবদ্ধ সময় শেষ হয়ে যাবে, তখন এটা একেবারে শেষ।একেবারে শেষ মানে এ থিউরি মৃত্যুকেই নির্দিষ্ট করেছেন। এখানে মৃত্যু মানে শেষের পরে শেষ। এ রকম যুক্তি এস্ট্রোলজি বা ট্যালিকিনেসিস এর বিরুদ্ধে যুক্তি গুলোর চেয়ে অধিকতর যৌক্তিক। কোর থিওরি মতে, প্রাণ যদি আত্মা ছাড়া পার্টিকেল এবং বল দ্বারা গঠিত হয়, তাহলে যা ব্যক্তিকে তৈরী করে তা পরমানুর বিন্যাসের মধ্যেই বিদ্যমান। কিন্তু,জীব বিজ্ঞানের সাথে এখানে বিরোধ আছে। কোর থিওরি মতে,মৃত্যুর পর যা ঘটে সেখানে যাওয়ার জন্য আর কোন উপায় নেই। আবার আত্মা শরীরের বাহিরেও সংরক্ষিত হবার উপায় নেই। দুনিয়ায় এমন কোন ফিল্ড নাই যেখানে আত্মা সংরক্ষিত থাকতে পারে। এটি আত্মা,যেটি কেবলই তার জন্য নির্ধারিত স্পেসে থাকে।

“এপোলজি অব সক্রেটিস” এ প্রখ্যাত দার্শনিক প্লেটো দাবী করেন, মৃত্যদন্ডের আদেশ দেয়ার পর মৃত্যুঞ্জয়ী সক্রেটিস বিচারকদের উদ্দেশ্যে মৃত্যু সম্পর্কে দু’টি মতামত ব্যক্ত করেন। প্রথমটি হল, মৃত্যু হল বর্তমান অস্তিত্ব থেকে আরেকটি অস্তিত্বে আত্মা বা চেতনার স্থানান্তর, যেখানে ইতোপূর্বে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহনকারী সবার আত্মাও থাকবে। সক্রেটিস এটিকে তার জন্য আনন্দদায়ক দাবী করে বলেন, তিনি মৃত্যুর পর বিখ্যাত গ্রীক বীর এবং চিন্তাবিদদেরকে তার দ্বান্দিক প্রশ্ন গুলো জিজ্ঞেস করতে পারবেন। যাকে আমরা জ্ঞানের রাজা বলে আসছি তিনি কি আসলেই জ্ঞানের রাজা? আমি মনে করি তিনি রাজার রাজা।একবার চিন্তা করুন,সক্রেটিস বিচারকদের সাথে ডাঁশমাছির মতো আচরণ করে মৃত্যুকে তো আলিঙ্গন করলেন,আবার ঘোষণা দিলেন,তিনি পরপারে গ্রীকবীর সহ ইতোপূর্বে প্রয়াত পন্ডিতদের সাথে আলাপ করে তাঁর জানার বিষয় গুলি ঝালাই করে নিবেন। জ্ঞানের স্পৃহা কতটা গতিময় হলে আর মৃত্যু নামক অব্যয়টি কতটা হালকাভাবে নিলে এ রকম ঘোষণা দেয়া যায়।তিনি পরপারে গিয়ে আত্মার খোরাক পুষিয়ে নেয়ার জন্য দ্রুত মৃত্যুর কোলে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন।তার কাছে মৃত্যু ছিল পরম আনন্দময়,উচ্ছ্বাসেভরা, না পাওয়াকে পাওয়ার তীব্র বাসনা আর জীবনের পূর্ণতা প্রাপ্তির সন্ধিক্ষণ। তার দ্বিতীয় মতামত, এই মৃত্যু একটি অবলিভিয়ন, চেতনার সম্পূর্ণ সমাপ্তি। একটি গভীর স্বপ্নবিহীন ঘুম। এই ধরনের মৃত্যুতেও সক্রেটিস ভীত নন,বরং উল্লসিত। তার মতে, তখন তিনি সব ধরনের ব্যথা ও ভোগান্তির নিষ্ঠুর করাঘাত থেকে মুক্ত থাকবেন। ধরাধামের নিষ্ঠুরতা তার কাছে ছিল বিরক্তিকর। এ বৈশম্যময় সমাজব্যবস্থা ছেড়ে মুক্ত হতে তিনি উদগ্রিব হয়ে উঠেছিলেন।তাঁর ধারণা,মৃত্যুতেই তিনি পাবেন পরম শান্তির প্রারম্ভিকা। কি অদ্ভুত চিন্তা!আমাদের একেবারে বিপরীত।

সক্রেটিসের ৩০০ বছর পর সিসোরো “অন গুল্ড এজ” গ্রন্থে মৃত্যু সম্পর্কে একই মতামত ব্যক্ত করেন। তার মতে, মৃত্যু চেতনার ধারাবাহিকতা অথবা চেতনার সমাপ্তি। রোমান কবি ও দার্শনিক লুক্রেটিয়াম “দ্যা রেরাম নেছারা” কাব্যে, গ্রিস দার্শনিক এপিকিউরাস “লেটার টু মেনুসিয়াস” গ্রন্থে বলেন, মৃত্যু আমাদের কাছে যে কিছুই না, এই উপলব্ধি আমাদের জীবনের নৈতিকতাকে উপভোগ্য করে তুলে। মৃত্যু জীবনকে একটি অসীম সময় দান করে না, বরং অমরত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যমেই এটি উপভোগ্য হয়। মৃত্যু অনিন্দ সুন্দর একটি মহাকাব্যও বটে।

যিনি মৃত্য অবধারিত ও জীবনের সমাপ্তি হিসেবে দেখেন মৃত্যুর ভয় তার কাছে থাকে না। মৃত্যুতে যার ভীতি তিনি বোকা। এই ভীতির কারণ এটা নয় যে, যখন মৃত্যু আসবে তখন ব্যথা হবে বরং কারণ হল, মৃত্যুর মানসিক দৃশ্যেই ভয় লুকায়িত। মৃত্যু আসলে ব্যথা থাকে না। মৃত্যুর অস্বীকৃতিই ‘ভীতিহীন’ ব্যথা দেয়। তাই সবচেয়ে ভয়ংকর এবং বাস্তব এই মৃত্যু আমাদের কাছে আসলেই কিছুই না। মৃত্যুকে যদি এভাবে দেখি আমরা যখন আছি, মৃত্যু তখন আসে না। আর যখন আসে, তখন আমরা থাকি না। যারা জীবিত তাদের কাছে মৃত্যু আসেনি আর যারা মৃত তাদের অস্থিত্ব নাই। খুবই সহজ হিসেব। মিলাতে হবে,মিলতে হবে। তখনই মৃত্যুসুখ উপভোগ করতে পারব,নয়ত ভোগ করতে হবে যন্ত্রনা। অবধারিত মৃত্যু এছাড়া আর কিছুই না, কেবলই মৃত্যু এবং পরবর্তী জীবনের শুরু।

মৃত্যুকে অনেকেই কিছুটা বস্তুবাদী আর কিছুটা আধ্যাত্মিক হিসেবে দেখেন। থার্মোডিনামিক্স তথ্য মতে, তাপ উৎপাদন চলতে থাকলে ইঞ্জিনও চলতে থাকে। জীনটা এন্ট্রফি হিসেবেও দেখা যায়। যতক্ষণ তাপ উৎপাদন হয়, ততক্ষন প্রাণ বহমান। তাপ উৎপাদন বন্ধ হলে শরীরের মৃত্যু হয় এবং প্রকৃতির অংশ হয়ে যায়।

আধ্যাত্মিক বিষয়টি বিশ্বাসের মূল ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। এটির কোন বাস্তবিক প্রমাণ প্রকাশ করা যায় না।সম্ভব না। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে বিশ্বাসের উপর এটি প্রতিষ্ঠিত।এ নিয়ে গবেষণার সুযোগ নেই।এটি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে ব্যাখ্যা করতে হবে। সে আলোচনা এখানে অবান্তর। সেটি তাত্ত্বিক নয়,বিশ্বাস।বিশ্বাস প্রত্যয়টি বেশ যৌক্তিক আর অকাট্য অব্যয়।

মৃত্যুর পর শরীর ধীরে ধীরে কীটের খাবারে পরিনত হয়। শেষে জৈব সার হিসাবে সঙ্গী হয় ফসফেট। কিন্তু,আত্মা অমর। এখানে বিজ্ঞানের ব্যর্থতা আকাশ ছোঁয়া। মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে বিজ্ঞান ব্যর্থ। মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে কেবল ধর্মগ্রন্থ গুলোই ভরসা। তাত্ত্বিক দিকে ভিন্নতা থাকলেও ধর্মগ্রন্থ গুলো মৃত্যুপরবর্তী জীবনে পূর্ববর্তী জীবনের যাবতীয় কাজের উপযুক্ত শাস্তি ও পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়ে একমত। নিউটনের গতি সম্পর্কিয় বিখ্যাত তৃতীয় সূত্র এখানে প্রাসঙ্গিক হিসেবে ধরা যায়। অনেকেই আত্মাকে অবিশ্বাস করলেও বিজ্ঞানের সব সূত্র আর সকল বিজ্ঞানী শক্তির বিনাস নাই তত্ত্বে বিশ্বাসী। আত্মাও যে একটি শক্তি তা কারো অবোধগম্য নয়। এখানে সবাই একমত। এমতাবস্থায়, মৃত্যু পরবর্তী জীবন নিয়ে অনেকেই অবিশ্বাস ও স্পষ্টবাদী না হলেও আত্মা নামের শক্তি যে মৃত্যুর পর শেষ হয়ে যায় না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না,সুযোগ তো নাই-ই। বিজ্ঞানও তা স্পষ্ট স্বীকার করে, তবে মুখে মানে না।

বিজ্ঞান মৃত্যু নিয়ে স্বভাবজাতভাবেই গ্রহনযোগ্য মতবাদ দেয়ার চেষ্টা করেছে। বিজ্ঞানের ভাষায় মৃত্যু জীবনের মত একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির মধ্য দিয়ে পরিভ্রমণ করে। মৃত্যু জীবনেরই একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। মৃত্যু ছাড়া জীবনের পূর্ণতা সম্ভব নয়। বিজ্ঞান এখানে অন্যান্য তত্ত্বের ন্যায় চূড়ান্ত ও প্রমাণিত কিছুই বলতে পারে না। কোন সূত্র,গাণিতিক ব্যাখ্যা,অনুসিদ্ধান্ত হাজির করতে ব্যর্থ বিজ্ঞান। মৃত্যু নিয়ে বিজ্ঞানের আলোচনা মূলত তাত্ত্বিক। প্রায়োগিক কিছুই নেই।

মৃত্যুর তিনটি স্তরের বর্ণনা মোটামুটি বিশ্লেষণযোগ্য।

ক্লিনিক্যাল ডেথঃ
শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার চার-ছয় মিনিট পর এই স্তরটি শুরু হয়। এ সময় মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অস্থিত্ব থাকে। তখন মস্তিষ্কের নেটওয়ার্ক সচল থাকে। মানুষ এই সময় উপলব্ধি করতে পারলেও প্রকাশ করার ক্ষমতা হারায় (ব্যতীক্রম ব্যতীত)। এ অবস্থা থেকে কেউ ফেরৎ আসলে সে আগের কিছুই মনে রাখতে পারেনা। ফেরৎ আসার নাম রিভার্সেবল এবং সময়টা নিয়ার ডেথ। এ সময়ে অনেকে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলার চেষ্টা করেছেন। এটি “নিয়ার ডেথ এক্সেপেরিয়েন্স” নামে প্রকাশিত। এ সময়ে মানুষের অভিজ্ঞতা চমকপ্রদ,সহৃদয়তায় ভরা। অনেকে এটিকে উৎকৃষ্ট ও মিষ্টিস্বাদের সুন্দর স্মেল বলেছেন।

বায়োলজিক্যাল ডেথঃ
এ স্তরে মানুষের হৃৎপিন্ডের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। রক্ত চলাচল থাকে না। মস্তিষ্কে অক্সিজেন হ্রাস পেতে থাকে। ফলে মস্তিষ্কের ক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। অতঃপর দেহকোষ গুলো ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে এবং জীবের চূড়ান্ত মৃত্যু ঘটে। এই পর্যায়ের অন্তিম মুহুর্তই হলো ইরিভার্সিবল। এখান থেকে ফিরে আসার ইতিহাস পাওয়া যায় না। কাল্পনিকভাবে যদি কেউ ফিরে আসে ধরে নেয়া হয়,তবে তিনি তার ঐ অবস্থার কিছুই বর্ণনা দিতে অক্ষম বলে ধরে নেয়া হয়।

অর্গানিক ডেথঃ
এটি মৃত্যুর চুড়ান্ত পর্যায়। এই পর্যায়ে মস্তিষ্ক মরে যেতে শুরু করে। মস্তিষ্ক মরে গেলে কৃত্রিমভাবে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রকে কর্মক্ষম করা গেলেও তখন জড়বন্তু ছাড়া আর কিছুই থাকে না। একটি জীবনের জড়বস্তু হয়ে যাওয়ার চূড়ান্তরূপ এটি। এখানেই মৃত্যুর সাথে কেউ প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে না। মৃত্যু এখানে মৃত্যুঞ্জয়ী। কি নির্মম টার্ম! জীব থেকে জড়। কিন্তু,আত্মা তার নির্ধারিত বসতিতে চলে যায়। জড়বস্তুটি মাটি খায়। মৃত্যু সুখের উল্লাস করতে করতে আত্মা তার নশ্বর দেহ ত্যাগ করে। তাইতো মৃত্যু সুখের,তার জন্যই অবিনশ্বর আত্মা আনন্দে উদ্বেলিত হতে পারে।

মৃত্যুর উল্লেখিত তিনটি স্তর বিশ্লেষণে দৃঢ়ভাবে বলা যায়, মৃত্যু হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নয়। বরং,পর্যায়ক্রমিক উত্তরণ। রিভার্সিবল সম্পর্কে বিজ্ঞান ব্যাপক উন্নতি লাভ করলেও ইরিভার্সিবল ও অর্গানিক স্তর নিয়ে বিজ্ঞানের অগ্রগতি শূণ্যের কোটায়।

উল্লেখিত স্থরের পরে কি ঘটে ? সব চেয়ে দামী এই প্রশ্নের কোন প্রকার উত্তর কোন (গতানুগতিক-প্রচলিত ধারণায়) বিজ্ঞানী, দার্শনিক, গবেষক দিতে পারেননি। অনেকেই যুক্তিহীনভাবে মতামত প্রদান করেন। এর বৈজ্ঞানিক কোন ভিত্তি বা ব্যাখ্যা নেই। নেই কোন সূত্র বা অনুসিদ্ধান্ত। তবে বিজ্ঞানীরা “প্রায়মৃত্যু” অভিজ্ঞতাকে বিশ্লেষণ করে মৃত্যু পরবর্তী তাৎক্ষনিক অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পোষণ করেন। ‘প্রায়মৃত্যু’ অভিজ্ঞরা বলেন,তারা শরীর থেকে আত্মা আলাদা হয়ে যাওয়া অনুভব করেছেন। তারা আত্মাকে একটি দ্রুতগামী টানেলের ভিতর দিযে ছুটে অসীম আলোর দিকে অগ্রসরমান বলে বর্ননা করেন। তারা দাবী করেন, এই অবস্থায় তারা মৃত আত্মীয় স্বজনদের অনুভব করেছেন। আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাবের ফলে এই অনভূতির সৃষ্টি হিসেবে চিহ্নিত করেন। তবে সব কিছুকে সম্ভাবনা হিসেবে অভিহিত করা হয়। নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলেনি। “প্রায়মৃত্যু” অভিজ্ঞতাটি একটি রহস্যই থেকে গেল।

পদার্থ বিজ্ঞান আত্মার ছুটে চলাকে “ওয়ার্ম হোল” দিয়ে তৃতীয় মাত্রা থেকে চতুর্থ মাত্রার দিকে প্রবেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে চায়। এটাও অনুমান, প্রমাণিত নয়। তবে আত্মা ও শরীর যে আলাদা কিছু এটা প্রমাণিত। আধুনিক যুগে বিজ্ঞানীরা দাবী করেন, মানুষের চেতনাকে আপলোড করা সম্ভব। অনেকেই একে মানুষের অমরত্ব হিসাবে দাবী করেন। গতশতকে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করা “ক্লোনিং” ই মূলত এই গবেষণার ফল। এটার মানবিক সহ অন্যান্য দিক নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। কারণ, মানুষের মস্তিষ্কের ক্রিয়া-কর্ম সম্পর্কে এখনো সু-স্পষ্ট ধারণা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর হেমেরফ মনে করেন, মানুষের চেতনাকে কম্পিউটারে আপলোড করা সম্ভব। কিন্তু তিনি আত্মাকে চিরন্তন এবং তা মানুষের মস্তিষ্কে প্রাকৃতিকভাবে আপলোড করা হয়েছে মর্মে দাবী করেছেন। তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্যার রজার দ্বি-মত পোষণ করে বলেন, চেতনাকে রেপ্লিকেট করা হয়তো সম্ভব, কিন্তু আত্মা রেপ্লিকেট করা সম্ভব কেবল প্রাকৃতিকভাবে। যদিও তিনি পরবর্তীতে তার বিশ্বাসে স্থির থাকেননি।

অস্থিত্ব ও নাস্তিক্যবাদের মধ্যে মূল ফারাক করে রেখেছে একটি থিম, সেটা মৃত্যু। জীবনটা উপভোগ্য ও বিপরীত চেতনার সৃষ্টি করে মূলত মৃত্যু নামক অবশ্যম্ভাবী ক্রিয়াটি। মৃত্যুর অস্থিত্বকে অস্বীকারকারীরা আত্মার অস্তিত্বকে স্বীকার করেন। যেটা তাদের দূর্বলতা ও স্ব-বিরোধীতার পরিচয়। তাই মৃত্যু না থাকলে জীবনের কোন উদ্দেশ্য থাকতো না। সব কিছুই নিরর্থক হয়ে উঠতো, আসলে তা নয়। জীবনের প্রতিটি স্তরই অর্থবহ, যার পেছনে ছায়ার মত কাজ করে মৃত্যু।

শুনতে কিছুটা ভয়ঙ্কর বা মেলোড্রামাটিক লাগলেও অনেকেরই মৃত্যুর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়ে ফিরে এসেছেন এমন ব্যক্তিদের কথায়, মৃত্যুশয্যা-এক অলৌকিক শক্তি,প্রায় সময় এটি মৃত্যুযন্ত্রণার ঘেরাটোপ থেকে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

আমরা চাই বা না-চাই মৃত্যু আমাদের কাছে আসবেই। মৃত্যুর আগে সক্রেটিসের শেষ বানী “ আমাকে মৃত্যু বরণ করতে হবে, আর তোমাকে বেঁচে থাকতে হবে।কোনটা ভাল একমাত্র ঈশ্বরই ভাল জানেন। আমার জন্য মৃত্যুই ভাল”। সক্রেটি হাসিমুখে ‘হেমলক’ বিষ পান করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিলেন।

ধর্মের ব্যাখ্যা মতে, পূণ্যবানের আত্মা মৃত্যুর পর বেহেস্তবাসী হয়। আর নিকৃষ্টের আত্মা হয় নরকবাসী। ব্যক্তির মৃত্যুর পর কেউ তার ভাল কাজের প্রশংসা করলে আত্মা শান্তি পায়। আবার কেউ অভিশাপ দিলে আত্মা নরক যন্ত্রনা ভোগ করে। কেউ অস্বীকার করতে পারবেনা-আত্মার এমন পরিনতি অসম্ভব। মৃত্যুর মত ধ্রুব সত্য যখন মেনে নিতেই হবে তখন আস্তিক, নাস্তিক কিংবা বিজ্ঞানের পূজারী আমরা যে শ্রেণীতে দাবী করিনা কেন আমাদের এমন কিছু করা উচিত, যাতে মৃত্যুর পর আত্মা আনন্দে আন্দোলিত হয়,হয় উদ্বেলিত,যেন সিক্ত হয় অমর ও অবিনশ্বর ভালবাসায়।আত্মা যেন ভালবাসার স্বচ্ছ সরোবরে যুগ যুগান্তর জলকেলি করে। মৃত্যুর পর উপযুক্ত সময়ে মানুষের পুরো জীবন চোখের সামনে ক্ষণিকের জন্য ভেসে উঠে। সে পৃথিবীতে আবার ফেরত আসতে চায়। তার অপরিপূর্ণ কাজগুলো করার জন্য।

আমি ব্যক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি, মৃত্যু বাস্তব,অনিন্দ্য সুন্দর,জীবনের পরম ও শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি।আত্মা চিরন্তন এবং সম্পূর্ণই মহান সৃষ্টিকর্তার নিজস্ব এলাকা।

মৃত্যুভীতি নয়,মৃত্যুকে উদযাপন করি।

বিঃ দ্রঃ লেখাটি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনের ফেইজবুক টাইমলাইন থেকে নেয়া।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
  • এই ওয়েব সাইটের কোন লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া  অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Theme Customized By Coxmultimedia
%d bloggers like this: